Symphony and Walton walks to a new path

সিম্ফনী, ওয়াল্টনের নতুনের পথে পথ চলা
August 3, 2013
Symphony and Walton walks to a new path


বাংলাদেশের বর্তমান লোকাল ফোন কোম্পানীর মধ্যে প্রধান দুই প্রতিদন্ধী হল Symphony আর Walton। প্রথম থেকেই তারা স্বল্প মূল্যের ফোন দিয়ে শহর ও গ্রাম দু-জায়গার মানুষের কাছাকাছি পৌছানোর চেষ্ঠা করে আসছিল। বলা যায়, দুটো কোম্পানীই এ কাজে বেশ সফল হয়েছে। 


এক সময় গ্রাম-বাংলার মানুষ অল্প দামে ভাল ফোন বলতে Nokia বুঝলেও বর্তমানে দামের উর্ধগতির রেসে এই দুই প্রতিদন্ধীর উপরই ভরসা রাখে অথবা বলা যায় সাধ বস্তুত সাধ্যের সাথে আপোষ করে নিয়েছে। উপরন্তু, এই দুই ফোন নির্মাতা (বা আমদানীকারক পড়তে পারেন) দামের সাথে তাল মিলিয়ে ফিচার ফোন গুলো যে খারাপ দিচ্ছে তা নয়, ফোন গুলো বেশ চমৎকার সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে।


মার্কেট শেয়ারে Symphony বেশ এগিয়ে আছে। বর্তমান ফোন (ফিচার+স্মার্টফোন) বাজারের প্রায় ৪৫% তারা একলাই দখল করে আছে। এদিক থেকে (ফিচার+স্মার্টফোন) এর পরেই আছে বিশ্বখ্যাত কোরিয়ান কোম্পানী Samsung, তাকে ফলো করছে ফিনিশ জায়ান্ট Nokia। তবে শুধু ফিচার ফোনের হিসাবে Nokia এখন বেশ ভাল অবস্থানে আছে, তারা সিম্ফনীর সাথে প্রতিদন্ধীতায় আছে।


হালে Walton "আমাদের পণ্য" স্লোগানে "দেশের পণ্য ইমেজ" (অনেকের অবশ্য ভিন্ন মত আছে) ব্যবহার করে বেশ অনেকটা এগিয়ে এসেছে। Walton অবশ্য ফিচার ফোনের বিক্রিতে Symphony থেকে যোজন যোজন দূরে অবস্থান করছে। আমার ধারণা, Walton বস্তুত বর্তমানে ফিচার ফোন নিয়ে ততটা চিন্তিতও নয়, ফিচার ফোন গুলো তারা বোধ করি, এমূহুর্তে শুধু মাত্র পোর্টফলিও রক্ষার জন্যে রাখলেও তাদের মূল লক্ষ্য স্মার্টফোনের বাজার। আর এজন্যেই ইদানীং তাদের মুড়ি-মুড়কি'র মত নতুন নতুন স্মার্টফোনের ঘোষনা আসছে। তবে Symphony আর Walton এই দুই কোম্পানী কিন্তু নিরবে তাদের ক্রেতাদের নিয়ে একটি পরীক্ষাতে নেমে গেছে। কেউ কি ধরতে পেরেছেন?


ফোন কোম্পানী দুটি যখন বাজারে আসে তখন তাদের সামনে ছিল বিশ্বখ্যাত সব নামী-দামী ব্র্যান্ড গুলোর ইমেজের বিশাল দেয়াল যা ফোন ব্যবহারকারীদের কাছে তাদেরকে অনেকটা অপাংতেয় করে রেখেছিল। তারা প্রথম চোটে খুবই স্বল্প দামের ফোন, সাথে সাথে একই ফোনে প্রায় সব ধরনের সুবিধা দিয়ে বাজারে একটি ক্রেজ তৈরী করে। একই ফোনে দুটো সীম, কান ফাটানো আওয়াজ, হুট-হাট হাত থেকে পড়ে গেলও মনে তেমন কষ্ট লাগে নাহ (সবার জন্যে অবশ্য প্রজোয্য নয়), দীর্ঘ ব্যাটারী ব্যাক-আপ, চুরি-ছিনতাইয়ে ক্ষতির পরিমাণ কম (বস্তুত এধরনের ফোন গুলো বাজারে আসার পর থেকে ফোন ছিনতাইয়ের হার কমে গেছে) প্রভৃতি কারণ গুলো মানুষকে উৎসাহিত করেছে এ ফোন গুলোর ক্রয় জন্যে।


মানুষ ধীরে ধীরে ফোন গুলোতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। এখন বোধ করি তাদের সেই অপাংতেয় ভাবমূর্তি জয়ে তারা অনেক অনেক দূর এগিয়ে এসেছে। আজ তাদের আলাদা আলাদা ভোক্তা শ্রেণী তৈরী হয়েছে যারা নাকি এই দুই ফোনের বাইরে ফোন কিনেন নাহ এবং নিজের পছন্দের নামটির জন্যে তর্ক করতেও পিছপা হন নাহ। মূলত বাংলাদেশে ফোনের বাজারে স্মার্টফোন দিয়েই তার বাজিমাত করে দিয়েছে, বলা যায় বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছে। দেশের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে চাকরীজীবি সবাই প্রযুক্তিতে যেন বুঁদ আর তাদের সাধ্যের সাথে সামর্থ্যের সন্নিবেশন ঘটিয়ে ফোন কোম্পানী গুলো তাদের দিয়েছে রকমারি স্মার্টফোন।


Symphony_Xplorer_zi


  

তো যে বিষয়টি বলছিলাম, Symphony এবং Walton নিরবে তাদের ভোক্তা কূলের নির্ভরতার বিচারে নিজেদের অবস্থান নিয়ে একটি খেলায় নেমেছে। সিম্ফনী সম্প্রতি তাদের একটি হ্যান্ডসেট রিলিজ করে, Symphony Xplorer ZI; চটজলদি খবরের যুগে এটি একটি পুরান হয়ে যাওয়া তথ্য, অন্যদিকে ওয়াল্টন এই সোমবারে তাদের নতুন আরো একটি হ্যান্ডসেট, Walton Primo X2 এর সাথে সবার পরিচয় করিয়ে দিতে যাচ্ছে।


walton_primo_x2


এ দুটি ফোনের স্পেসিফিকেশন মিল কতটুকু আছে বা নাই অথবা কে কার থেকে ভাল; আমরা সেসব কথায় যাবো নাহ। চলুন অন্য একদিকে নজর দেওয়া যাক, খেয়াল করেছেন কি, মাইক্রো-সীম সাপোর্টেড দুটোই ফোন কিন্তু আবার সিংগেল-সীমের স্মার্টফোন। এক সময়ে যাদের নাম বলতে ক্রেতারা শুধু কমদামী ডুয়েল-সীম চাইনীজ ফোন বুঝতো আজ সেসব কোম্পানী বাজারে ব্র্যান্ডেড ইমেজে হাই-এন্ড পারফর্মেন্সের ফোন নিয়ে আভির্ভূত হচ্ছে। এ যেন তাদের গায়ে লেগে থাকা উটকো গন্ধ ছাড়িয়ে নিজেদের আরো দূরে নিয়ে যাবার প্রয়াস।


সমালোচকরা যে যাই বলুক না কেন, বাংলাদেশের আপামর প্রযুক্তি প্রিয় মানুষেরা মূলত এই ফোন নির্মাতাদের (বা আমদানীকারক, যেটাই বলুন) হাত ধরেই স্মার্টফোনের স্বাদ পেয়েছে। আমাদের মত দেশে মনের মত স্পেসিফিকেশনে ফোন কিনতে গেলে ঠিক মন ভাংগা দামটি দিতে হয়।


Symphony এবং Walton দুটো কোম্পানীর জন্যে তাদের নতুন এই হ্যান্ডসেট মডেল গুলোর সাফল্য প্রয়োজন আর এর উপর নির্ভর করছে তাদের পরবর্তী পরিকল্পনা। যদি মডেল গুলো সফল হয়, তারা আরো ভাল পারফর্মেন্সের দামী হ্যান্ডসেট আনতে বিন্দু মাত্র ইতস্থত বোধ করবে নাহ। আর বাজার যদি বিমুখ করে, তবে তাদের সামনে ভবিষ্যৎ সব সময় খোলা থাকবে, হয়তো এখই সময় উপযুক্ত নয়, তবে অবশ্যই আসবে।


zubair_khan  লিখেছেন

  যুবায়ের খান





 
Related News


 
comments powered by Disqus