Motorola to Be Sold Again!

আবার বিক্রি হতে যাচ্ছে মটোরোলা!
April 5, 2014
Motorola to Be Sold Again!


হ্যাঁ পাঠক, বেশ কিছুদিন ধরে চলা গুজবটিকে অবশেষে নিশ্চিত করেছে গুগল। ২০১১ সালে গুগল একরকম হুট করেই মটোরোলাকে কিনেছিল প্রায় ১২.৫ মিলিয়ন ডলারে (৯৭১ কোটি বাংলাদেশী টাকা প্রায়)। তখন থেকেই গুগল ধীরে ধীরে কোম্পানিটির আকার ছোট করেছে, এর ডিভাইস সংখ্যা কমিয়ে এনেছে এবং এর বিপুল সংখ্যক পেটেন্ট দিয়ে নিজের প্রোপ্রাইটারি পণ্যভান্ডার সমৃদ্ধ করেছে।


কিন্তু এর পরেও গত ক’বছর ধরে একনাগাড়ে মটোরোলার ব্যাবসা হারিয়ে শেষ পর্যন্ত মাউন্টেন ভিউ (ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত গুগলের গ্লোবাল হেডকোয়ার্টার) এই ‘ভার’ চীনা কম্পিউটার প্রস্তুতকারক জায়ান্ট লেনোভোর কাঁধে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।


আর এর মধ্য দিয়ে লেনোভো ব্ল্যাকবেরি কিনতে যাচ্ছে বলে যে গুজব বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছিল তাকে বাতাসেই মিলিয়ে দিল গুগল। অবশ্য ভবিষ্যতে সে সম্ভাবনা আবার জাগ্রত হতেও পারে। কারণ, গত দু’বছর ধরেই বৈশ্বিক মোবাইল ব্যাবসা ধরতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ পিসি তৈরিকারক এই কোম্পানিটি। এর অংশ হিসেবেই তারা মটোরোলাকে কিনছে এবং মটোরোলার বর্তমান অবকাঠামো, পেটেন্ট আর ব্র্যান্ড পরিচিতি আমেরিকার মুঠোফোন বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরিতে লেনোভোকে সহায়তা করবে বলেই ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।


লেনোভোর সাথে এ নিয়ে হতে যাওয়া চুক্তির সত্যতা নিশ্চিত করে গুগল জানিয়েছে যে ২.৯১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের (২৩,৩০২ কোটি বাংলাদেশী টাকার সমতুল্য) বিনিময়ে এই হস্তান্তর হতে যাচ্ছে। চুক্তির আরো কিছু খুটিনাটি বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।


motorola_lenevo_google             

                                 মটোরোলা এখন আর গুগল নয়, বরং লেনোভো কোম্পানি



উল্লিখিত টাকার সিংহভাগই নগদ অথবা প্রমিসরি নোট আকারে শোধ করা হলেও প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের লেনোভোর মালিকানাধীন শেয়ার পাবে গুগল। চুক্তি অনুযায়ী যদিও মটোরোলার মেধাসম্পত্তি স্বত্ব, ব্র্যান্ড এবং ট্রেডমার্কের মালিকানা পাবে লেনোভো, তবু মটো’র পেটেন্টকৃত সম্পদের বড় একটি অংশের মালিকানা থাকবে গুগলের হাতে। আর এর অ্যাডভান্স্‌ড রিসার্চ ইউনিটটিও আপাতত গুগলের সাথেই থাকছে।


তবে অদূর ভবিষ্যতে গুগল যে আর মোবাইল ফোন মার্কেটে আসছে না এই চুক্তি সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তাহলে গুগল কেনই বা এত অল্প সময়ের জন্যে মোবাইল বাজারে এসেছিল বা এত অর্থ খরচ করে মটোরোলার মত ক্রমাগত ব্যবসা হারানো একটা কোম্পানীকে কিনেছিল?


একটু চিন্তা করলেই পরিষ্কার বোঝা যায়, গুগলের মূলত চোখ ছিল মটোরোলার ফোন সংক্রান্ত বিভিন্ন পেটেন্ট গুলোর উপর। মটোরোলার প্রায় ২০০০ এর মত পেটেন্ট আছে ফোন ও এসংক্রান্ত। অ্যান্ড্রয়েডের পতাকা বর্তমানে বলতে গেলে স্যামসাং একাই বহন করছে; আর স্যামস্যাংয়ের সাথে অ্যাপলের রয়েছে পেটেন্ট সংক্রান্ত বেশ কিছু বিরোধ। তাই স্যামসাংকে ব্যাকিং দেওয়া আর অ্যান্ড্রয়েড এর পথে যাতে করে অ্যাপলের iOS কোন ভাবে বাঁধা হয়ে দাড়াতে না পারে সেই লক্ষ্যে এই বিশাল বাজটের ক্রয় হয়েছিল।


আর বর্তমানে এই বিক্রির অন্য একটি উদ্দেশ্য হল, গুগল যদি নিজের অপারেটিংয়ে নিজেই ফোন ব্যবসায় নেমে পড়ে তবে তারা সরাসরি তাদের সব থেকে বিশ্বস্ত ব্যবসায়িক বন্ধু স্যামসাংযের সাথে প্রতিযোগীতায় রত হয়ে পড়ে।  অনেকের মতে ঠিক একারণেই স্যামসাং তাদের নিজস্ব অপারেটিং “টাইজেন” নিয়ে কাজ শুরু করে।


তবে মজার বিষয় হল, গুগল মটোরলা বিক্রির সিদ্ধান্ত নিবার পর থেকে স্যামসাং তাদের “টাইজেন” অপারেটিংযের ব্যাপারে বেশ চুপচাপ এবং গনমাধ্যমের কাছে জানায় এটি এখনো অনেক প্রাথমিক পর্যায় আছে, পরিপূর্ন ভাবে প্রস্তুত হতে আরো অনেক সময় লাগবে।


অন্যদিকে গুগল ঠিক কেন লেনোভোর কাছেই বিক্রি করতে রাজি হয়েছে, সেই কথা বলতে গেলে; আপনারা অনেকেই হয়তো জানেন চায়নাতে গুগল নিষিদ্ধ। তাই, মটোরোলার মত একটি আমেরিকান আইকোন কোম্পানী চাইনীজ কোম্পানীর কাছে বিক্রি করে গুগল হয়তো চায়নার সাথে সম্পর্ক ভাল করতে চাইছে।


মটোরোলার অভ্যন্তরীন একটি সূত্র বলেছে যে তারা বিশ্বাস করে লেনোভোই ‘তীব্র প্রতিযোগিতামূলক’ স্মার্টফোন বাজারে মটো’কে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারবে। মটোরোলাকে কেনার মাধ্যমে লেনোভো সত্যিই উপকৃত হতে যাচ্ছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ পিসি মেকার কোম্পানিটি সম্ভবত খুব শীঘ্রই আমেরিকার তৃতীয় বৃহৎ মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে; আর চীনে এক্ষেত্রে তাদের অবস্থান হবে দ্বিতীয়। তাছাড়া বিভিন্ন রিটেইলার এবং মোবাইল অপারেটরদের সাথে থাকা মটোরোলার বর্তমান চুক্তিগুলোর আওতায় বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত মোবাইল ফোন মার্কেটে খুব সহজেই প্রবেশ করতে পারবে লেনোভো- আর এটাই তো তাদের মূল লক্ষ্য।


আর লেনোভোও মটোরোলার বর্তমান টিমের উপর আস্থা প্রকাশ করেছে। স্বল্প সময়ের জন্যে হলেও শিকাগোতে অবস্থিত মটো’র প্রধান কার্যালয় বন্ধ করা, কর্মী বা নির্বাহীদের ছাঁটাই করা- এমন কোন পরিকল্পনা লেনোভোর নেই। তবে কোম্পানিটি এও বলেছে যে তারা ব্যাবসা বাড়ানোর জন্য যা করা সমীচীন তাই করবে, এবং আমেরিকাতে মটো’র উৎপাদন সংশ্লিষ্ট চাকরিগুলো কমিয়ে আনবে। অর্থাৎ মটো’র উৎপাদন ব্যাবস্থা সম্পূর্ণভাবে আমেরিকার বাইরে, খুব সম্ভবত চীনে স্থানান্তরিত হবে। মনে হচ্ছে লেনোভো মূলত পরিচিতি আর সাফল্যের জন্যই মটোরোলা ‘ব্র্যান্ড’টিকে ধরে রাখবে।


- শাম্‌স শিমুল

 

 
Related News


 
comments powered by Disqus


Recent News