Huawei plans for 2 billion dollar cyber security

ব্যবসা ধরে রাখতে হুয়াওয়ের ২ বিলিয়ন ডলারের Cyber Security পরিকল্পনা
December 21, 2018
Huawei plans for 2 billion dollar cyber security


বহুজাতিক নেটওয়ার্ক ও টেলিকম সরঞ্জাম নির্মাতা হুয়াওয়ে টেকনোলজিস কোম্পানি লিমিটেড সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে আগামী পাঁচ বছরে ২০০ কোটি ডলার ব্যয় করবে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বাড়ানো এবং বিদ্যমান ল্যাব হালনাগাদে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। গত মঙ্গলবার চীনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে সাইবার নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে।
খবর রয়টার্স।

 

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। যে কারণে চীনা টেকনোলজি জায়ান্ট হুয়াওয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে খারাপ সময় পার করছে। এর পণ্যের নিরাপত্তা বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছে দেশটি। বলা হচ্ছে, হুয়াওয়ের টেলিকম সরঞ্জাম কিংবা ডিভাইস ব্যবহার করলে তথ্য চুরির আশঙ্কা রয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। হুয়াওয়ের ওপর চীন সরকারের প্রভাব রয়েছে। কাজেই হুয়াওয়ের নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম কিংবা ডিভাইস ব্যবহার করলে চীন সরকার মার্কিনদের ওপর গোয়েন্দাগিরির সুযোগ পাবে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের পর একই অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ার বাজার হারিয়েছে হুয়াওয়ে। পঞ্চম প্রজন্মের বা ফাইভজি নেটওয়ার্কের সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে দেশটি। এতে অংশ নেয়ার কথা থাকলেও নেটওয়ার্কিং সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকায় শেষ পর্যন্ত হুয়াওয়ের পণ্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

 

অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, অন্য দেশের ওপর গোয়েন্দাগিরি করতে চীন স্থানীয় কোম্পানিগুলোকে বাধ্য করছে। যে কারণে হুয়াওয়ে তাদের সরঞ্জামের মাধ্যমে অন্য দেশের নাগরিকদের ওপর নজরদারি করছে এবং চীন সরকারের কাছে তথ্য হস্তান্তরে বাধ্য হচ্ছে।

 

শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়াতেই নয়; নেটওয়ার্ক সরঞ্জামের নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে ফ্রান্স, কানাডা, নিউজিল্যান্ড ও জাপানের মতো গুরুত্বপূর্ণ টেলিকম বাজারে খারাপ সময় পার করছে হুয়াওয়ে। যেসব দেশ হুয়াওয়ের নেটওয়ার্ক সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, সেসব দেশে ফাইভজি নেটওয়ার্ক অবকাঠামো নির্মাণে অংশ নিতে পারবে না প্রতিষ্ঠানটি, যা প্রতিষ্ঠানটির জন্য বড় ধরনের ব্যবসায় ক্ষতি বলে মনে করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে ব্যয় বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হলো।

 

হুয়াওয়ে বরাবরই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিরোধিতা করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের পণ্যের মাধ্যমে চীন সরকারের হাতে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচ্ছে এমন প্রমাণ কেউ দিতে পারেননি। কাজেই তাদের পণ্যের নিরাপত্তা নিয়ে যা কিছু লেখা হচ্ছে, তার সবই ভ্রান্ত ধারণা। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অন্যায়ভাবে তাদের বৈশ্বিক ফাইভজি নেটওয়ার্ক নির্মাণে পিছিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

হুয়াওয়ের রোটেটিং চেয়ারম্যান কেন হু জানিয়েছেন, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দেশ হুয়াওয়েকে ছাড়াই তাদের ফাইভজি নেটওয়ার্ক অবকাঠামো নির্মাণ করতে যাচ্ছে। প্রতিদ্বন্দ্বীহীনভাবে কোনো একটি কাজ সম্পন্নের ক্ষেত্রে ভালো কিছু আশা করা যায় না। আমরা বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম খাতে নেতৃত্ব দিচ্ছি। আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, আজ পর্যন্ত কেউ তার কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। কাজেই প্রকৃত তথ্য-প্রমাণ ছাড়া কারো অভিযোগ আমলে নেয়ার প্রশ্ন আসে না। যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে আমাদের পণ্য বর্জন করছে, আমরা তার বিরোধিতা করছি। এটা সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক ও ব্যবসায় সুবিধা নিতে করা হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রেখেছি। জাপান ও ফ্রান্স এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হুয়াওয়ের পণ্য নিষিদ্ধ করেনি।

 

বিশ্বব্যাপী হুয়াওয়ের নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম নিয়ে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

 
Related News


 
comments powered by Disqus


Recent News