Email reveals facebook was planned to sell user data

ইমেইল লিকঃ ফেসবুক তার ব্যবহারকারীদের তথ্য বিক্রি করতে চেয়েছিল
January 13, 2019
Email reveals facebook was planned to sell user data


২০১২ সালে বিভিন্ন কোম্পানির কাছে ব্যবহারকারীদের তথ্য বেচতে চেয়েছিল সোস্যাল মিডিয়া জায়ান্ট ফেসবুক। প্লাটফর্মটির কর্মকর্তারা ব্যবহারকারীদের তথ্যে প্রবেশের সুযোগ দিতে কোম্পানিপ্রতি অন্তত ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার নেয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে তারা এমন উদ্যোগ থেকে সরে এসেছিলেন। সম্প্রতি আদালতের একটি নথির উদ্ধৃতি দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে আর্সটেকনিকা ডটকম। 


গত শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্ধযুগ আগে ব্যবহারকারীদের তথ্য বিক্রির উদ্যোগ নেয়া হলেও নেতিবাচক প্রভাবের কথা বিবেচনায় নিয়ে তা বাতিল করা হয়। ২০১৪ সালের এপ্রিলে ব্যবহারকারীর তথ্য ব্যবস্থাপনায় কিছুটা পরিবর্তন আনে ফেসবুক। সর্বশেষ ২০১৫ সালের জুনে ব্যবহারকারীদের কিছু তথ্যে স্থায়ীভাবে প্রবেশ নিষিদ্ধের কথা জানিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।


ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ফেসবুকের রাজস্ব আয়ের অন্যতম মাধ্যম ডিজিটাল বিজ্ঞাপন প্লাটফর্ম। ফেসবুক কর্মকর্তারা অর্থের বিনিময়ে বিজ্ঞাপনদাতাদের পণ্য নিয়ে আরো বেশিসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছনোর আশ্বাস দিয়েছিলেন। যে কারণে বিজ্ঞাপনদাতাদের আরো বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্যে প্রবেশের সুযোগ দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। ফেসবুক কর্মকর্তাদের উদ্যোগ সফল হয়েছে কিনা, তা প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার তথ্য আদালতের নথিতে উঠে এসেছে।


আর্সটেকনিকা ডটকমের তথ্যমতে, বিভিন্ন কোম্পানির জন্য ভি১.০ গ্রাফ এপিআইতে প্রবেশের সুযোগ বাড়িয়েছিল ফেসবুক। গ্রাফ এপিআই হলো ফেসবুক ব্যবহারকারীদের তথ্য রিড ও রাইট করার প্রাথমিক উপায়। জাপানভিত্তিক বহুজাতিক গাড়ি নির্মাতা নিশান ও রয়্যাল ব্যাংক অব কানাডার পাশাপাশি ক্রাইসলার/ফিয়াট, লিফট, এয়ারবিএনবি ও নেটফ্লিক্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের তথ্যে প্রবেশাধিকার দেয়া হয়েছিল।


অর্ধযুগ আগে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের তথ্য বিক্রির পরিকল্পনা এমন এক সময় প্রকশিত হলো, যখন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাতে সোস্যাল মিডিয়া জায়ান্টটির অভ্যন্তরীণ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি পৌঁছেছে। ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এসব নথি মার্কিন সফটওয়্যার কোম্পানি সিক্সফোরথ্রির কাছ থেকে পেয়েছে। সিক্সফোরথ্রি ও ফেসবুকের মধ্যে তথ্য কেলেঙ্কারি বিষয়ে একটি মামলা চলছে।


২০১৮ সালের মে মাসে সিক্সফোরথ্রি ক্যালিফোর্নিয়ায় ফেসবুকের বিরুদ্ধে নতুন একটি মামলা করে। এতে অভিযোগ করা হয়, ফেসবুক তাদের অ্যাপের মাধ্যমে প্লাটফর্ম ব্যবহারকারী ও তাদের বন্ধুদের তথ্য সংগ্রহ করছে। পরবর্তী সময়ে ফেসবুকের বিরুদ্ধে অ্যাকাউন্ট নেই, এমন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ ওঠে।


ব্রিটিশ রাজনৈতিক পরামর্শক ও তথ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার অ্যাপের মাধ্যমে প্রায় নয় কোটি ব্যবহারকারীর তথ্য বেহাত হওয়ার ঘটনা প্রকাশের পর চাপে পড়ে ফেসবুক। গত বছরের শুরুর দিকের এ ঘটনার পর আরো বেশ কয়েকটি বড় তথ্য কেলেঙ্কারি প্রকাশ পায়। গত বছরজুড়ে একাধিকবার ক্ষমা চাইতে হয়েছে ফেসবুক সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গকে। হাজির হতে হয়েছিল সিনেট কমিটির শুনানিতে।


ফেসবুক ব্যবহারকারীদের অবস্থানগত তথ্য ট্র্যাকিং করা, টেক্সট মেসেজ পড়া এবং মোবাইল ডিভাইসের ছবিতে প্রবেশের জন্য বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করা হয়। গত বছর মার্চে ব্যবহারকারীদের ফোন কল ও টেক্সট মেসেজ সংগ্রহের কথা স্বীকার করে ফেসবুক। তবে তথ্য সংগ্রহের এ কাজ ব্যবহারকারীদের অনুমোদন সাপেক্ষে করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।


বিশ্লেষকদের মতে, ফেসবুকের তথ্য কেলেঙ্কারির ঘটনা যে বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে, তা হলো অনলাইনে আমাদের সব পদক্ষেপ নজরদারি করছে বিশ্বের জনপ্রিয় এ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। শুধু ফেসবুকই নয়, গোপনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সব কার্যক্রম অনুসরণ করছে আরো অন্তত ডজনের বেশি কোম্পানি।

 
Related News


 
comments powered by Disqus


Recent News