Apple expects to loss about 900 crore dollar in last quarter of 2018

অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসের বিক্রিতে Apple এর ৯০০ কোটি ডলার ঘাটতির আশংকা
January 4, 2019
Apple expects to loss about 900 crore dollar in last quarter of 2018


বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে খারাপ সময় পার করছে অ্যাপল। বিশ্লেষকরা কিছুদিন ধরেই আইফোন বিক্রি কমার পূর্বাভাস দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি অ্যাপল কর্তৃপক্ষও স্বীকার করে নিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত প্রথম প্রান্তিকে অ্যাপলের আইফোন বিক্রিতে ৯০০ কোটি ডলার রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিম কুক।
খবর সূত্রঃ দ্য ভার্জ।


গত বুধবার বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে লেখা চিঠিতে টিম কুক জানান, আইফোনের নতুন তিন সংস্করণের প্রত্যাশিত বিক্রি না হওয়ার নেতিবাচক প্রভাব তাদের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের আর্থিক খতিয়ানে পড়তে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী আইফোন হালনাগাদ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এ কারণে প্রান্তিকটিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব কমার আশঙ্কা করা হচ্ছে।


তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে আইফোনের গুরুত্বপূর্ণ বাজার চীন। দেশটিতে আইফোনের বিক্রি উল্লেখযোগ্য কমেছে। পাশাপাশি উন্নত বাজারগুলোতেও আইফোনের চাহিদা ক্রমান্বয়ে কমছে। চীনে আইফোন বিক্রি কমার জন্য দেশটির অর্থনৈতিক দুর্বল অবস্থা ও যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধকে দায়ী করা হয়। বাণিজ্যযুদ্ধের জেরে চীনের অনেক করপোরেট প্রতিষ্ঠান আইফোন বর্জন করে কর্মীদের স্থানীয় কোম্পানি হুয়াওয়ের হ্যান্ডসেট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। প্রয়োজনে হুয়াওয়ের ফোন কিনতে ১০ শতাংশ মূল্য পরিশোধের আশ্বাস দেয়া হয়েছে।


চিঠিতে টিম কুক জানান, অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে আইফোন বিভাগ বাদে অ্যাপলের অন্য ব্যবসা বিভাগগুলোর রাজস্ব বার্ষিক ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি, এখনো অ্যাপলের রাজস্বের সিংহভাগ আসে আইফোন বিক্রি থেকে। কাজেই আইফোন বিক্রি কমার প্রভাব অ্যাপলের সব বিভাগের ওপর পড়বে।


সিটি রিসার্চ গত সপ্তাহে জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথমার্ধের জন্য অ্যাপল সাড়ে চার কোটি ইউনিট আইফোন তৈরি করতে পারে। যদিও এর আগে একই সময়ে পাঁচ কোটি ইউনিট আইফোন তৈরির পূর্বাভাস দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।


সিটি রিসার্চের বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াং বলেন, আমরা মনে করি, আইফোন মজুদ হ্রাসের ধাপে প্রবেশ করেছে, যা সরবরাহ চেইনের জন্য ভালো কোনো লক্ষণ নয়। এ কারণে আমরা প্রাক্কলন কমিয়ে এনেছি।


তিনি বলেন, আইফোন এক্সএস ম্যাক্সের চাহিদা কমে আসার আশঙ্কায় সামগ্রিক উৎপাদনের পূর্বাভাস কমিয়ে আনা হয়েছে। সর্বশেষ পূর্বাভাসে আইফোন এক্সএস ম্যাক্স উৎপাদনের প্রাক্কলন ৪৮ শতাংশ কমিয়েছে সিটি রিসার্চ।


আইফোন এক্সএস ম্যাক্স অ্যাপলের দ্বাদশ প্রজন্মের ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন। গত সেপ্টেম্বরে চড়া দামের এ হ্যান্ডসেট বাজারে ছাড়া হয়। ডিভাইসটির ভিত্তিমূল্য ১ হাজার ৯৯ ডলার।


আইফোন উৎপাদন নিয়ে সিটি রিসার্চের এ পূর্বাভাসে অন্যান্য ব্রোকারেজ হাউজের আশঙ্কাই প্রতিধ্বনিত হয়েছে। গত ডিসেম্বরের শুরুতে টিএফ ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটিজও চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের জন্য আইফোন সরবরাহ প্রাক্কলন ২০ শতাংশ কমিয়ে আনে। ওই সময় প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষক মিং-চি কু জানান, ২০১৯ সালে আইফোন সরবরাহ ২০১৮ সালের তুলনায় ৫-১০ শতাংশ কম হতে পারে।


আইফোন অ্যাপলের ট্রেডমার্ক পণ্যগুলোর একটি। এটিকে স্মার্টফোন বাজারের বৈপ্লবিক ও গেমচেঞ্জার ব্র্যান্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০০৭ সালের জুনে আইফোন প্রথম বাজারে ছাড়া হয়। দুর্বল চাহিদার কারণে গত বছর সেপ্টেম্বরে বাজারে ছাড়া আইফোনের নতুন তিন সংস্করণের কয়েক ধাপে উৎপাদন কমিয়েছে অ্যাপল।

 
TAGS : Apple , iPhone , iOS , 2018 ,
Related News


 
comments powered by Disqus


Recent News